রিট
হাইকোর্ট; রিট (প্রতীকী ছবি)

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ চ্যালেঞ্জ করে স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহালের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রিট পিটিশন নম্বর ৪৯০০/২০২৬।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন)।

রিটে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট পিটিশনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের আইন প্রণয়ন বা বাতিলের ক্ষমতা থাকলেও তা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের সীমার মধ্যে আবদ্ধ। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করার কোনো এখতিয়ার সংসদের নেই। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ।

রিটে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু রহিতকরণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই কাঠামো ভেঙে দিয়ে বিচার প্রশাসনকে পুনরায় নির্বাহী বিভাগের অধীন করা হয়েছে, যা সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

এতে আরও বলা হয়েছে, এই আইনের ফলে বিচার বিভাগ একটি গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়েছে। সচিবালয় বিলুপ্ত হওয়ায় বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিচারকদের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি।

এমতাবস্থায়, রিটে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ কেন বেআইনি, ক্ষমতা বহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

একইসাথে, অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়ে বলা হয়েছে—যতদিন পর্যন্ত সংসদ নতুন কোনো আইন প্রণয়ন না করে এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া যায়, ততদিন পর্যন্ত পূর্বের ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ ও ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ পুনর্বহাল করে কার্যকর রাখার নির্দেশ দেওয়া হোক।

রিটটি শিগগিরই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।