পবিপ্রবি প্রতিনিধি |পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং স্বাধীন গবেষক আবু হাসনাত তুহিনের জলবায়ু ও মানবাধিকার বিষয়ক একটি যৌথ গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ বিশ্বসেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভ (HHI)’—এর অফিসিয়াল পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত এই গবেষণাধর্মী লেখায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট মানুষের বাস্তুচ্যুতি, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের চরম মানবাধিকার সংকট এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আইনি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষক দল তাঁদের যৌথ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভয়াবহ নদীভাঙন, তীব্র খরা ও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। অথচ, বর্তমান প্রচলিত আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনে (International Refugee Law) এই বিপুল সংখ্যক ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ বা ক্লাইমেট রিফিউজিদের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট আইনি সুরক্ষা কাঠামো কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। এই আইনি শূন্যতার কারণে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুরা মৌলিক মানবাধিকার থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মূল আর্টিকেলটি পড়ার লিংক: Harvard Humanitarian Initiative (HHI) Article
উচ্চমানের এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশের তিন জন বিশিষ্ট গবেষক। গবেষণা দলটির সদস্যরা হলেন: ১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম: তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক এবং বর্তমানে হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভের ‘ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে কর্মরত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক মানবাধিকার, জলবায়ু ন্যায়বিচার (Climate Justice) ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ক উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত আছেন। ২. আবু হাসনাত তুহিন: তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন স্বাধীন গবেষক। বর্তমানে তিনি জলবায়ু উদ্বাস্তু, মানবাধিকার ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিয়ে মাঠপর্যায়ে গবেষণা করছেন। ৩. মো. শিহাব উদ্দিন: তিনি ঢাকার ‘সেন্টার ফর লোকাল গভর্ন্যান্স ডিসকোর্স’-এর সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মূলত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সামাজিক নীতি ও জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন।
গবেষণাপত্রে লেখকরা বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষায় অবিলম্বে নতুন বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন সংশোধন করে তাদের দ্রুত আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
এই অসামান্য আন্তর্জাতিক অর্জন প্রসঙ্গে গবেষক আবু হাসনাত তুহিন তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে আমাদের গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। জলবায়ু ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে পেরে আমি সম্মানিতবোধ করছি। ভবিষ্যতেও মানবাধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে আমার এই গবেষণা ও আইনি বিশ্লেষণমূলক কাজ আমি চালিয়ে যেতে চাই।”
বাংলাদেশের একজন তরুণ আইন গবেষকের এমন আন্তর্জাতিক ও গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ দেশের আইন ও পরিবেশ সচেতন বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।

