মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা জুডিশিয়াল তদন্ত চেয়ে রিট

মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা জুডিশিয়াল তদন্ত চেয়ে রিট

কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরে একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগম নামে এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রিটে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও তার মৃত্যুর ঘটনা পুলিশের পরিবর্তে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফ সরকার জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেবেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের সাথে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সন্তানদের অবহেলাজনিত কারণে এই মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ লুকিয়ে আছে কি না, তা উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাই ‘পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ এবং ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি (পেনাল কোড) অনুযায়ী অবহেলাজনিত কারণে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রচলিত পুলিশি তদন্তের পরিবর্তে একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।”

তিন ছেলে প্রতিষ্ঠিত, তাও একাকীত্বে কাটছিল জীবন

গত ৩১ মে রবিবার রাতে মিরপুরের ১১ নম্বর এলাকার ৬ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেন তাঁর মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা (৫২)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর ছেলেদের সামাজিক ও পেশাগত অবস্থান অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত। ছেলেদের মধ্যে একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের দাবি, উচ্চপদস্থ ও সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও ছেলেরা কেউ নিয়মিত বৃদ্ধা মায়ের দেখভাল বা খোঁজখবর নিতেন না।

জানা যায়, নুরজাহান বেগম ওই ফ্ল্যাটে তাঁর মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানার সঙ্গেই থাকতেন। তবে মা ও মেয়ে ওই বাসার আলাদা দুটি কক্ষে অবস্থান করতেন। গত কয়েকদিন ধরে মায়ের কক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে গত রবিবার এক নার্সকে ডেকে আনেন তাঁর মেয়ে। ওই নার্স কক্ষে প্রবেশ করে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমকে মৃত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।