আদালত রিপোর্টার, চট্টগ্রাম | বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ সারা দেশের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের সার্বিক কল্যাণ ও সুরক্ষায় প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ আইনজীবীরা প্রতি বছর সরকারের কোষাগারে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব জমা দিলেও বাজেটে তাঁদের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় এই আবেদন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আজ সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক অফিশিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশেষ দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বারের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বার্থেই সরকার অবিলম্বে এই ৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ মঞ্জুর করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারা দেশের আইনজীবীদের কল্যাণে বর্তমান বাজেট থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ প্রদানের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রী বরাবরে একটি যৌথ আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট তারিক আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন।
দেশ ও জনগণের কল্যাণে এবং আইনজীবীদের সুরক্ষায় প্রদত্ত এই মানবিক ও যৌক্তিক আবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় এনে চলমান বাজেটে সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইনজীবী নেতৃবৃন্দ।
প্রতি বছর ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও আইনজীবীরা বঞ্চিত
চট্টগ্রাম বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে দেশের অর্থনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় আইনজীবীদের অবদান এবং বর্তমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ সারা দেশে তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজারের অধিক। এর মধ্যে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিরই সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৯ হাজারের অধিক।
নেতৃবৃন্দ সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করে বলেন, সারা দেশের বিজ্ঞ আইনজীবীগণ নিয়মিত মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা এবং জায়গা-সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদির আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের রাজকোষে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকারও অধিক রাজস্ব জমা দিচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, তদানুপাতে আইনজীবীদের নিজেদের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য জাতীয় বাজেটে কোনো ধরনের আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয় না। বর্তমান বাজেটে জনকল্যাণমুখী অনেক ভালো বরাদ্দ ও চমৎকার প্রস্তাবনা থাকলেও, ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের কল্যাণে বিচার বিভাগের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে কাজ করা আইনজীবীরা অতীতের মতো এবারও বাজেটে চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়তে আইনজীবীদের অবদান
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের কাছে দেশের আপামর আইনজীবীদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের “সবার আগে বাংলাদেশ” গড়তে বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ জনগণের আইনি সেবা প্রদানে দেশের আইনজীবীরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
আইনজীবীরা একদিকে যেমন সরকারের তহবিলে বিশাল অঙ্কের বিপুল রাজস্ব জমা দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করতে সরাসরি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের এই বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞ আইনজীবীদের একটি বড় অংশেরই প্রাত্যহিক ও দৈনন্দিন আয় অত্যন্ত সীমিত। ফলে এই পেশাজীবীদের চিকিৎসা, আপৎকালীন সুরক্ষা ও পেশাগত মানোন্নয়নে বাজেটে স্থায়ী বরাদ্দ রাখা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

