ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বর্তমানে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং বাংলা ভাষাভাষী কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রতি প্রকাশ্য হুমকির প্রেক্ষাপটে এই নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে বাংলাদেশী নাগরিকরা নিয়মিত ভারতে ভ্রমণ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, ভারতের কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রকাশ্যে চরম হেনস্তা ও সহিংসতার হুমকি দিচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এই হুমকিগুলোকে কেবল মৌখিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; কারণ অতীতে এই একই গোষ্ঠী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের এই অতীত রেকর্ড প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশীদের জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তারা সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনি নোটিশে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, নাগরিকদের ‘জীবনের অধিকার’ (Right to Life) রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংগঠিত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সুস্পষ্ট হুমকির মুখে নাগরিকদের ওইসব অঞ্চলে ভ্রমণের অনুমতি প্রদান করা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ব্যর্থতার শামিল।
নোটিশে দাবিকৃত বিষয়সমূহ:
-
স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন বন্ধ: পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার সাথে সংযুক্ত সকল স্থলবন্দরে বাংলাদেশী নাগরিকদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
-
বিমানবন্দরে কড়াকড়ি: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপদ পরিবেশের কূটনৈতিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোতেও পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাগামী বাংলাদেশী নাগরিকদের ইমিগ্রেশন কঠোরভাবে স্থগিত করতে হবে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ০৭ (সাত) দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ভারতের উল্লিখিত দুই রাজ্যে বাংলাদেশী নাগরিকদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (PIL) দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।

