কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে আইনের বিধান অনুযায়ী লভ্যাংশের অংশ জমা না দেওয়া ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ পাবলিক ও প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার (৫ জুলাই) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এস এম আরিফ মন্ডল এই রিট পিটিশনটি (নং-৮০১৮/২০২৬) দায়ের করেন। শুনানিতে সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ অংশগ্রহণ করেন।
হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুল নিশির জবাব প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটের প্রেক্ষাপট ও আইনি বাধ্যবাধকতা
রিটকারী আইনজীবী এস এম আরিফ মন্ডল জানান, আইনের বিধান থাকা সত্ত্বেও দেশের অধিকাংশ পাবলিক ও প্রাইভেট কোম্পানি শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে লভ্যাংশ জমা দিচ্ছে না। ‘শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন-২০০৬’ এর ধারা-১৪(৩) ও বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী, যে সকল কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে এক কোটি টাকা বা মোট সম্পদ দুই কোটি টাকা, তাদের লভ্যাংশের ০.৫ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে এই তহবিলে জমা দিতে হয়।
বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ৮ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অর্থ প্রদানের যোগ্য হলেও, এ পর্যন্ত মাত্র ৫১৮টি প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ জমা দিয়েছে। তদারকির অভাবে দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠানগুলো এই আইন ভঙ্গ করে আসছে, ফলে শ্রমিকরা তাদের আইনগত পাওনা ও কল্যাণমূলক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রিটে যাদের বিবাদী করা হয়েছে
এই রিট পিটিশনে মোট পাঁচজনকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন: ১. সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২. চেয়ারম্যান, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন (পদাধিকারবলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী)। ৩. সদস্য সচিব, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন। ৪. মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। ৫. মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর।
রিটকারী আইনজীবী ইতিপূর্বে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আইনি নোটিশ প্রেরণ করেছিলেন।
২৫০ লক্ষ কোটি টাকা আহরণের সম্ভাবনা
আইনজীবী এস এম আরিফ মন্ডল আশা প্রকাশ করেন যে, রিট মামলাটি যথাযথভাবে শুনানি ও নিষ্পত্তি করা গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আইনের নির্ধারিত অর্থ তহবিলে জমা করানো সম্ভব হবে।
তিনি দাবি করেন, এই খাতে যথাযথ আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অন্তত ২৫০ লক্ষ কোটি (২৫০ ট্রিলিয়ন) টাকা শ্রমিকদের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব, যা দিয়ে শ্রমিক ও তাঁদের পোষ্যদের চিকিৎসাসেবা, সন্তানের শিক্ষা, দুর্ঘটনাজনিত স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যুতে আর্থিক সহায়তা, এবং মহিলা শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন কল্যাণসহ আইনের ৪(১) ধারায় বর্ণিত সকল সুবিধাদি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, মূলত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর তদারকির অভাব ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছাচারিতা করার সুযোগ পাচ্ছে।

