মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, কক্সবাজার | অসচ্ছল ও আইনি সুবিধা পেতে অসমর্থ নাগরিকদের সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেওয়ার সুবিধা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সরকার কাজ করছে। যাতে আইনের সমান সুযোগ পাওয়া প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সুনিশ্চিত হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম এসব কথা বলেন।
জেলা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম আরও বলেন, “লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ঘটাতে সরকার আগের সংস্থাকে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ রূপান্তরিত করেছে। বর্তমানে প্রবাসী, জুলাই যোদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আহতদের লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।”
তিনি মামলার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “নিয়মিত আদালতে মামলা দায়ের করে বিড়ম্বনা পোহানোর চেয়ে এডিআর-এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা অনেক শ্রেয়। মামলার মাধ্যমে সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হয় না, কিন্তু এডিআর-এর মাধ্যমে তা সম্ভব।”
আরও পড়ুন : ঢাকা বারে ডিজিটাল বিপ্লব: এখন থেকে ঘরে বসেই বিকাশে দেওয়া যাবে চাঁদা
জেলা চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী-এর সঞ্চালনায় সভায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম বলেন, “আদালতে বিচারকদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যতো মামলা নিষ্পত্তি হয়, একই সময়ে তার চেয়েও বেশি মামলা দায়ের হয়। তাই মামলা জট কমাতে লিগ্যাল এইড ও এডিআর পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম।”
স্বাগত বক্তব্যে সিনিয়র সিভিল জজ অভিজিৎ চৌধুরী কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সার্বিক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবু হানিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: অহিদুর রহমান, পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান, অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী ও প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ.বি.এম মহিউদ্দিন।
এ সময় লিগ্যাল এইড অফিসের উপকারভোগী ক্লিনটন দে ও খুরশিদা বেগম তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী হিসেবে পুরুষ ক্যাটাগরিতে অ্যাডভোকেট শাহা আলম ও মহিলা ক্যাটাগরিতে অ্যাডভোকেট এসমিকা সুলতানা-কে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সভার শুরুতে একটি চমৎকার ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মোঃ আসিফ, গীতা পাঠ করেন বেঞ্চ সহকারী প্রণব কান্তি শর্মা এবং ত্রিপিটক পাঠ করেন বেঞ্চ সহকারী সেতু বড়ুয়া।
আরও পড়ুন : শাহজাদপুর চৌকি আদালতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে র্যালি ও দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নান ও পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বাদ্যবাজনা ও ঘোড়ার গাড়ি সহ বর্ণাঢ্য র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
দিবসটি উপলক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী লিগ্যাল এইড মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদান, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, ফ্রি মেডিকেল চিকিৎসা সেবা, ওজন পরিমাপ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং আইনি বইপত্রের স্টল। কক্সবাজারের চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া চৌকি আদালতেও অনুরূপ কর্মসূচী পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকেয়া আক্তার, ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক, ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী সহিদুল ইসলাম, শিশু ধর্ষণ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: রবিউল আলম, পারিবারিক আপীল আদালতের বিচারক মামুনুর রশীদসহ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজগণ (রশিদ আহমেদ মিলন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাইয়েদ মাহবুবুল ইসলাম, মো: আমিরুল হায়দার চৌধুরী, মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী ও মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ), যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজগণ, সিনিয়র সিভিল জজবৃন্দ, জিপি অ্যাডভোকেট শামশুল হুদা, জেল সুপার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার (জাতিসংঘের সংস্থা সহ) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

