সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক (ফাইল ছবি)

যাত্রাবাড়ীর খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা | বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর (Shown Arrest) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ শনিবার (২৩ মে) সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহীম খলিলের করা আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে খোবাইব হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য ছিল।

মামলার এজাহার ও অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্তলগ্নে যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে খোবাইব নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই নৃশংসতার ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে গত ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়, যেখানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককেও আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আর নেই

উল্লেখ্য, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল করে রায় দেওয়া এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।

গত ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা ৫টি মামলাসহ মোট ৫টি মামলায় আপিল বিভাগে তাঁর জামিন বহাল রাখা হয়। এরপর গত ১২ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত আরও দুটি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। সে সময় তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, তৎকালীন চলমান সবকটি (৭টি) মামলায় জামিন হওয়ায় এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ তৎক্ষণাৎ সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানায়।

এদিকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও কোনো ধরনের হয়রানি না করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুলসহ এই আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের সেই নির্দেশনার সপ্তাহ খানেকের মাথায় পুরনো আরেকটি সুনির্দিষ্ট মামলায় পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখাল, যার ফলে তাঁর কারাগার থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া আবারও ঝুলে গেল।