সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমতলী
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমতলী

কাবিন নিবন্ধন না করায় আমতলীতে সামারি ট্রায়ালে স্বামীর ২ মাসের কারাদণ্ড

বিপ্লব চন্দ্র দাস, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী বিয়ের পর কাবিন (নিকাহ) নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রি না করার গুরুতর অপরাধে সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) শেষে এক স্বামীকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গত রবিবার (৫ জুলাই) বরগুনার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইফতি হাসান ইমরান এই রায় ঘোষণা করেন।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন লঙ্ঘন করায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. জুয়েল মিয়া। তিনি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের মো. জাকির হাওলাদারের ছেলে।

আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নার্গিস আক্তার গত ১১ মে, ২০২৬ তারিখে তাঁর স্বামী মো. জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ৫(৪) ধারার বিধান অনুযায়ী কাবিন রেজিস্ট্রি না করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আমতলী আদালতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী মামলাটির সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালত অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উভয় পক্ষের মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ, দালিলিক তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। আইনি শুনানি শেষে আসামি মো. জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে কাবিন নিবন্ধন না করার অপরাধটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক ১৯৭৪ সালের উক্ত আইনের ৫(৪) ধারায় তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

আমতলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবু বকর সিদ্দিক রায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন-

সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুত রায় হওয়ায় ভুক্তভোগী স্বল্প সময়ে বিচার পায়। এ ধরনের রায় আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

আইনজীবীরা মনে করছেন, গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলে অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের পর কাবিন রেজিস্ট্রি না করে নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা দেখা যায়। আমতলী আদালতের এই সামারি ট্রায়ালের রায় আইনি জটিলতা কমিয়ে নারীদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিবাহ নিবন্ধন নিশ্চিতকরণে দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।