“Some are born great, some achieve greatness, and some have greatness thrust upon them.”
— William Shakespeare
“যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
আমি বাইব না, আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে গো,
চুকিয়ে দেব বেচা-কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেবো লেনাদেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে—
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে।”
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিনয়, নম্রতা, মৃদুভাষী এবং সর্বদা পরিপাটি ও ফিটফাট এক ব্যক্তিত্ব। আদালতের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি যাঁর ভূষণ, আর ওয়াদা করলে নিমন্ত্রণে পৌঁছাতেন সবার আগে।
তিনি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার। ১৯৩১ সালের ১লা ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের নয়াবাড়ী-ভজনপুরে তাঁর জন্ম। শৈশবে তাঁর নানীজানের দোয়া ছিল—“হামার ছাওয়া (আমার ছেলে) ব্যারিস্টার হবে।” নাতী ব্যারিস্টার হবে শুনে নানা জানের খুশিতে ঘানি ভাঙানো খাঁটি সরিষার তেল উপহার দেওয়ার স্মৃতি আজও তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ও পরম উপহার।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের নির্বাচনী সভা এবং ভ্রমণের সময় স্যারের সুযোগ্য সন্তান ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির স্যারের সঙ্গে আলাপকালে ভাবছিলাম—স্বপ্নের কখনো মৃত্যু নেই; মানুষ সত্যিই তার স্বপ্নের চেয়ে বড়। আজ ঢাকা থেকে এই বিজ্ঞ ও শ্রদ্ধেয় সিনিয়রের জন্মস্থানে যেতে ট্রেনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আর তখনকার দিনে? সারাদিনে বড়জোর একটা বাস, গরুর গাড়ি, মাইলের পর মাইল পায়ে হাঁটা পথ আর জঙ্গল পেরোলে তবেই দেখা মিলত দার্জিলিং জিরো পয়েন্ট ঘেঁষা এই সীমান্ত শহরের। সেই অজপাড়াগাঁ থেকে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, জীবনের শত বাধা গণ্ডার ডিঙিয়ে তিনি নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। মাইলের পর মাইল পথ চলেছেন এক ক্লান্তিহীন অভিযাত্রীর মতো—
“Long way to go before I sleep.”
শিক্ষা জীবন: “I shall become a Barrister”
ভজনপুর সেন্ট্রাল স্কুল ও পরবর্তীতে ভজনপুর মানির স্কুলে তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরু। ছাত্রাবস্থা থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল স্থির। একবার তাঁর শিক্ষক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “What is your aim in life?” তৎকালীন মাত্র ১০ বছর বয়সী এই বিজ্ঞ সিনিয়র তৎক্ষণাৎ উত্তর দিয়েছিলেন, “I shall become a Barrister.” পরবর্তীতে জলপাইগুড়ির তৎকালীন ইংরেজ এস.পি. সাহেবকেও তিনি একই উত্তর দিয়েছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি তাঁর সেই স্বপ্নকে সত্যি করে একজন সফল ব্যারিস্টার হয়েছিলেন।
জলপাইগুড়ি শহরের আনন্দচন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর জগন্নাথ কলেজ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. (ইতিহাস) এবং এলএলবি (LLB) ডিগ্রি অর্জন করেন। ইতিহাস পড়ার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে স্যারের একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল—
“ইতিহাস জানলে ইংরেজি ও রাজনীতি—সবই জানা হয়ে যাবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) জীবন শেষ করার পর শুরু হয় তাঁর জীবনের আসল যুদ্ধ।
ওকালতি ও রাজনৈতিক জীবনের ঐতিহাসিক টাইমলাইন
একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি: বিগত ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহিত আমার বন্ধু জহির, মো: লইসলাম অ্যাডভোকেট এবং আমি স্বয়ং সরাসরি সাক্ষাৎ করি। তখন শিমুল বিশ্বাস (এস.পি.) সাহেব একটি দারুণ কথা বলেছিলেন—“অনেকেই আসে, কিন্তু কেউ গন্তব্যে যেতে পারেনি; আমাদের বিজ্ঞ সিনিয়র স্যার এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।” আমরা তাঁর প্রতি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
আদালতের বন্ধু: অগাধ পাণ্ডিত্য ও অমায়িক আচরণ
রাজনৈতিক মামলা, ফৌজদারি মামলা, ট্যাক্স কিংবা কোম্পানি আইন ও সিভিল—সব ক্ষেত্রেই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্যারের ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই ‘আদালতের বন্ধু’ (Amicus Curiae)। আদালতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনো মেজাজ হারাতে বা উচ্চশব্দে কোনো প্রকার উষ্মা প্রকাশ করতে তাঁকে দেখা যায়নি। সমসাময়িক ১০টা-৪টার কোর্ট কাচারির জীবনে তিনি সবসময় নির্দিষ্ট পোশাক বা Proper Dress মেনে চলতেন। আদালতের কার্যসময়ে কেউ আনফিট (Unfit) বা অপ্রস্তুত থাকলে তিনি প্রচণ্ড বিরক্ত হতেন।
-
বাগ্মীতা ও রাজনৈতিক সততা: অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রাবস্থায় ১৯৪৫ সালে প্রথম বক্তৃতা দিতে গিয়ে পরবর্তীতে জেল খাটেন। তিনি এতটাই তুখোড় বাগ্মী ছিলেন যে একটানা ৪০-৫০ মিনিট অনর্গল বক্তব্য রাখতে পারতেন। বিগত একটি নির্বাচনে টানা ১১টি নির্বাচনী ক্যাম্পে দীর্ঘ বক্তৃতা করার পর সন্ধ্যায় একজন কর্মী যখন বললেন, “স্যার, ভাত খাবো,” স্যার রসিকতা করে উত্তর দিয়েছিলেন, “আরো ২টা ক্যাম্প শেষ করে তারপর কাচ্চি বিরিয়ানি খাবো!” প্রথম পরিচয়েই মানুষের হৃদয় জয় করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ও Human Psychology বুঝতে তিনি ছিলেন দারুণ পারদর্শী। রাজনীতিতে কোনো প্রকার লোভ-লালসা বা ‘দল পল্টিবাজি’ মনোভাবহীন একজন খাঁটি মানুষ ছিলেন তিনি।
-
শিক্ষা ও মানবকল্যাণ: মসজিদ, মাদ্রাসা, কলেজ, পলিটেকনিকসহ শিক্ষার প্রসারে সর্বদা উৎসাহ দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (UGC) পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তিনি কত স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেলে জাতি ধন্য হতো।
আলোচিত ও ঐতিহাসিক কিছু মামলা
সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Long Echoes’-এ লিখেছিলেন—“Shahjahan was never found again, he was vanished in the air.” স্যারের ক্যারিয়ারের সংবিধান, ফৌজদারি, দেওয়ানি ও কাস্টমস সংক্রান্ত ৩টি যুগান্তকারী মামলা হলো:
১. Mohshin Sharif Vs Govt of Bangladesh, 27 DLR, P. 186
২. Mesra Bengal Steel Works Limited Vs Chairman, Ward/Board of Revenue (Petition No. 209 of 1973)
৩. Mokaram Hossain Rudro Vs The State
নালিশের সারসংক্ষেপ ও বিচারকের মনস্তত্ত্ব (স্যারের প্রিয় উক্তি)
তিনি জুনিয়রদের সবসময় ফিরোজ খান নূনের Autobiography পড়তে বলতেন। আবুল মনসুর আহমদের ইতিহাস, দর্শন ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর পাণ্ডিত্যের প্রশংসা করতেন এবং প্রখ্যাত আইনবিদ এ. কে. ব্রোহীর কথা স্মরণ করতেন। দেশভাগ ও স্বাধীনোত্তরকালের সকল রাষ্ট্রপতি এবং নামজাদা বিচারপতিদের মেধা সম্বলিত তালিকা ও ইতিহাস তাঁর নখদর্পণে ছিল। জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে স্যারের মূল আইনি দর্শন ও প্রিয় পরামর্শ ছিল:
“It is through knowledge of law, application of mind, hard labour, marshalling of facts and with full confidence to appear before the court, reading the psychology of the judge that is necessary to make yourself a good Barrister.”
-
তাঁর দেওয়া কিছু অমূল্য উপদেশ:
-
মোহরীর (ক্লার্ক) সব কথা অন্ধের মতো বিশ্বাস করবে না। নিজে ফাইল পড়ে তবেই কোর্টে যাবে (Digest your brief).
-
আদালতে সবসময় বিনয়ী, শান্ত, অনুগত ও আনন্দদায়ক থাকবে (Politeness, Calmness, Submissive. Be pleasant).
-
দান করলে তা কখনো বৃথা যায় না। অহংকার ও দাম্ভিকতার পরিণতি মানুষ এই দুনিয়াতেই দেখে যায়।
-
যথা সময়ে আদালতে উপস্থিত থাকবে এবং পোশাক-পরিচ্ছদ থাকবে সর্বদা ফিটফাট।
-
হাস্যরস, দৃঢ় চেতনা এবং জুনিয়র-বান্ধব অভিভাবক
ব্যারিস্টার পাড়ায় শুরুর দিকে কখনো আর্থিক দৈন্যতা বা স্ট্রাগল আসলে কী করণীয়? স্যার হেসে বলতেন, “দরকার হলে নিজের চামড়ার সুটকেস বিক্রি করবে! কারণ লন্ডনে চামড়ার জিনিসপত্র অনেক দামী।” দৃঢ় মনোবল থাকলে যে কোনো পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব, এটিই ছিল তাঁর বিশ্বাস।
আদালত পাড়ায় তিনি সর্বদাই জুনিয়র-বান্ধব ছিলেন। অনেক জুনিয়র মনে করতেন স্যারকে সকাল সকাল কোর্টে নিয়ে গেলে মামলা আগে শেষ হবে। কার্যতালিকার যত দূরেই আইটেম থাকুক না কেন, অনেক সময় সম্মানিত বেঞ্চ এই প্রবীণ সিনিয়রকে দেখলে আগে আগে মামলা ডাকতেন ও শুনতেন। ফলে ভালো প্রতিকারও পাওয়া যেত।
একবার ভ্যাকেশনে (Vacation) মাননীয় সিনিয়র বিচারপতি জনাব কামরুল ইসলাম মোল্লা সাহেবের আদালতে বিজ্ঞ সিনিয়র একটি মামলা মেনশনের (Mention) জন্য দাঁড়ালেন। আদালতের প্রাথমিক ভিউ ছিল—“Vacation is for juniors, আর জুনিয়ররা হায়ার করলো সিনিয়রকে! স্যারকে অ্যালাউ করলে তো সব সিনিয়ররা চলে আসবে।” স্যার তাঁর স্বভাবসুলভ ২২ মিনিটের সাবলীল বক্তব্যে কেন মামলাটি আপগ্রেড হওয়া প্রয়োজন তা চমৎকারভাবে বুঝালেন। What a persuasion! পরিশেষে মেনশনটি অ্যালাউ হলো এবং পরের দিন কার্যতালিকার শীর্ষে (Top of the list) এসে ভালো রেমেডি বা প্রতিকার পেল। আদালতের মন-মেজাজ ও মর্জি বুঝে কাজ করায় তিনি ছিলেন ওস্তাদ।
কোর্ট-কাচারির ফাঁকে প্রায়ই জুনিয়রদের বলতেন, “বাসায় এসো।” আমরা সবাই যেতাম। চা দিয়ে শুরু হয়ে কাচ্চি বিরিয়ানি আর সন্দেশ খেয়ে বিদায় নিতাম। এই বয়সেও তিনি নিজে মেইন গেট ও লিফটের সামনে এসে জুনিয়রদের বিদায় দিতেন। একেই বলে প্রকৃত পারিবারিক শিক্ষা ও আভিজাত্য। বিদায় নেওয়ার সময় আবেগী হয়ে বলতেন, “আরেক কাপ চা খাবো, আরেকটু বসি।”
গল্প, সিনেমা, থিয়েটার, আড্ডা, ইতিহাস, দর্শন ও রাজনীতি—সব কিছুতেই তাঁর ছিল বহুমুখী প্রতিভা ও তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি (Sharp Photographic Memory)। ৯৫ বছর বয়সেও তিনি অকপটে জুনিয়রদের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা মনে রাখতেন এবং জিজ্ঞেস করতেন, “তোমার নাতী কেমন আছে? হাসপাতালে চাকরি ঠিকমতো করিতেছে কিনা?”
শেষ মামলা ও এক বিরল ইতিহাসের সাক্ষী
“জীবনে সব মামলায় জয় হয় না, সব মামলাটি জিত হয় না।”
মাননীয় বিচারপতি জনাব ইজারুল হক আকন্দ সাহেব এবং মাননীয় বিচারপতি নাসরিন মহোদয়ের সমন্বিত দ্বৈত বেঞ্চে গত মে ২০২৬ তারিখে স্যারের জীবনের সর্বশেষ ২টি আইটেম আপগ্রেড হয়। দীর্ঘ শুনানি অন্তে মামলা দুটি ‘Not Press’ হিসেবে রিজেক্ট হয়। এর আগে বহু মামলায় তিনি চমৎকার প্রতিকার পেয়েছেন, তাই এই আদেশে কোনো আফসোস ছিল না। আদালতের প্রতি তাঁর সম্মান ছিল সর্বদা চিরন্তন।
৯৫ বছর বয়সী এই বিজ্ঞ সিনিয়রের সাথে আদালতের বারান্দায় বিচরণ করার বিরল সম্মান পাওয়া মানে একটি জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া। আমাদের দেশের বিচারিক ইতিহাসে ৮৫ বছরের উপরে সাধারণত কেউ সশরীরে আদালতে আসেননি। এর আগে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক স্যার এবং খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ স্যার দ্বয়কে শেষ বয়স পর্যন্ত আদালতে আসতে দেখা গেছে। বয়স, ব্যাধি বা বার্ধক্য কোনোটিই স্যারকে বশীভূত করতে পারেনি, বরং তিনিই দৃঢ় চিত্তে বার্ধক্যকে বশ করেছিলেন। এই প্রান্তিকে প্রয়াত সিনিয়র টি. এইচ. খান স্যারই ছিলেন তাঁর সর্বশেষ সমসাময়িক বন্ধু।
-
সংস্কৃতিমনা মানুষ: ইলিশ মাছ খেতে ভীষণ পছন্দ করতেন স্যারের স্ত্রী সুরাইয়া ফারাহ চৌধুরী। লন্ডনের ‘Waterloo’ বা ‘Borboti Street’ এর মতো বড় বড় শব্দগুলো স্যার মনে রাখার সুবিধার জন্য ছোট করে মুখস্থ রাখতেন। ঢাকা, দার্জিলিং, কলকাতা, বোম্বে, দিল্লি, লন্ডন, প্যারিসসহ সমগ্র বিশ্ব ভ্রমণ করলেও ঢাকার প্রতিটি অলিগলি ছিল তাঁর নখদর্পণে। আজাদ সিনেমা হল, রূপমহল, গুলিস্তান, নবাবপুরের খোশমহল রেস্তোরাঁ, গোপীবাগ, টিকাটুলী, ওয়ারী—সবখানেই ছড়িয়ে আছে তাঁর শত স্মৃতি।
-
গরিবের আশ্রয়: আদালত পাড়ার গার্ড, লিফটম্যান, মুচি, টয়লেট ক্লিনার—প্রত্যেকের সাথে স্যার হেসে দেখা করতেন। চেম্বারে কোনো গরিব মানুষ আসলে তিনি মেহমানের মতো গ্রহণ করতেন। একবার চেম্বারে একজন আইনজীবী কটূক্তি করে এক গরিবকে বললেন, “এই গরিব, তুই বারের সভাপতির রুমে যা।” স্যার কিচ্ছু না বলে নীরবে পকেট থেকে ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা বের করে সেই গরিব লোকটির হাতে দিলেন। গরিব লোকটি হাসল, আর তার সাথে পুরো চেম্বার হেসে উঠল।
লর্ড ডেনিং (Lord Denning), সলি সোরাবজি (Sol Sorabjee) কিংবা রাম জেঠমালানি (Ram Jethmalani)-র মতো বিশ্বখ্যাত প্রাজ্ঞ আইনজীবীরা ৯০ থেকে ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ভারতের আদালতে মামলা পরিচালনা করেছেন। আমাদের বিজ্ঞ সিনিয়র স্যারও সেই শতায়ু ও দীর্ঘায়ু প্রজ্ঞার এক অনন্য আশীর্বাদ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ঠিকই বলেছিলেন—
“যে দেশে গুণের কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না।”
বাইরে সর্বদা কোট-টাইয়ে ফিটফাট থাকলেও, বাসায় ঢোকা মাত্রই লুঙ্গি, সাদা ফতুয়া, চটি কিংবা সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবিতে তিনি হয়ে উঠতেন এক চেনা মাটির মানুষ। উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, পাহাড়ী স্যানাল, মৃণাল সেন, বিকাশ রায়ের অভিনয় তাঁকে মুগ্ধ করত। সুচিত্রা-উত্তমের ‘উত্তর ফল্গুনী’ সিনেমায় ব্যারিস্টারের ভূমিকায় বিকাশ রায়ের অভিনয় আজীবন তাঁর প্রিয় ছিল। এছাড়াও হারানো সুর, সাগরিকা, পথে হলো দেরী, শেষ অংক এবং উষা দত্ত, গীতা দত্ত, আশা ভোসলে, লতা মঙ্গেশকর, শচীন দেব বর্মন ও মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গান ছিল তাঁর অবসরের সঙ্গী।
তথ্যপুঞ্জী ও স্যারের রচিত/সম্পর্কিত গ্রন্থসমূহ:
১। সুরাইয়া ফারাহ চৌধুরী; ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার
২। লন্ডনে শিক্ষা জীবন — (ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার)
৩। লন্ডনে বন্ধু বান্ধব — (ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার)
৪। লন্ডনে ছাত্র আন্দোলন — (ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার)
৫। Glimpses of International Law
৬। Origin and Process of Democracy
৭। পাল রাজ থেকে পলাশী এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন
৮। Stronger United Nations for Peaceful Welfare World
যতটুক দেখেছি, যতটুকু শিখেছি, যা পেয়েছি—তাহাই লিখেছি।
“তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম
নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমা নিশীথিনী সম
তুমি রবে নীরবে।”
সম্পাদনায়: মুহাম্মদ শহিদউল্লাহ (মুন্না), অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (জুনিয়র টু ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন অ্যান্ড জুরিস্ট)। ইমেইল: munna1942@yahoo.com

