কক্সবাজার লিগ্যাল এইড
কক্সবাজার লিগ্যাল এইড

৪ মাসে আদায় ৪৬ লক্ষ টাকা, মামলা নিষ্পত্তির হার ১০৭ শতাংশ : মডেল হওয়ার পথে কক্সবাজার লিগ্যাল এইড

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী : কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আইনি সেবা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে (ADR) অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গত ৪ মাসে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা আদায় এবং ১০৭ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

অর্জিত সাফল্যের পরিসংখ্যান

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৪ মাসে মোট ৪৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ অভিজিৎ চৌধুরী জানান, এই সময়ে মোট ৬৫৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে:

  • প্রি-কেইস এডিআর: আবেদন ৬৪২টি, যার নিষ্পত্তির হার শতকরা ১০৭ ভাগ।

  • পোস্ট-কেইস এডিআর: আবেদন ১৪টি, যার নিষ্পত্তির হার শতকরা ৭৯ ভাগ।

  • আইনগত সহায়তা: এই সময়ে ১৯৮টি মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের প্রধান সহকারী খোকন মাহমুদ জানান, আদায়কৃত অর্থের মধ্যে দেনমোহর, ভরণপোষণ, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা খরচ এবং জমি ও বিদেশ সংক্রান্ত পাওনা টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লক্ষ্য যখন ‘মডেল লিগ্যাল এইড’

লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, “জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা কার্যক্রমকে জনবান্ধব করছি। আমাদের লক্ষ্য কক্সবাজারকে একটি ‘মডেল লিগ্যাল এইড অফিস’ হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে সাধারণ মানুষ মামলার দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত সমাধান পায়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে এখন আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আদালতের জট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান এই অর্জনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, লিগ্যাল এইডের সক্রিয়তার ফলে নিয়মিত আদালতে মামলার জট কমছে। এছাড়া অফিসে সিটিজেন চার্টার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মাতৃদুগ্ধ কর্নার এবং পৃথক মিডিয়েশন রুমের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সেবার মানকে অনেক উন্নত করেছে।

সংকট ও সম্ভাবনা

কার্যক্রমের গতি আরও বাড়াতে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী জানান:

  • জনবল সংকট: বেঞ্চ সহকারী, হিসাব সহকারী ও অফিস সহায়কসহ প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

  • অবকাঠামো: রেকর্ড রুম ও ওয়েটিং রুমের পর্যাপ্ত জায়গা প্রয়োজন।

  • পরিবহন সুবিধা: ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে গণশুনানি ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে যাতায়াতের জন্য নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিনা খরচে সরকারি আইনি সহায়তা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কক্সবাজার লিগ্যাল এইড অফিসের এই অগ্রযাত্রা বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।