জেলা ও দায়রা জজ আদালত, যশোর
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, যশোর

যশোরে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বাদী গ্রেপ্তার

যশোরে এক বিচারকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন শহরের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা শরিফুল আলম।

মামলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন আর্জিটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস

এদিকে মামলা দায়েরের পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় বাদী শরিফুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানা গেছে।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আইনবহির্ভূত বিভিন্ন আদেশ প্রদান, আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ৪ মার্চ যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এরপর থেকে আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই ওই আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন : তীব্র গরমে কালো কোট-গাউনে ‘হাসফাঁস’, ড্রেস কোড শিথিলের দাবি আইনজীবীদের

বাদী শরিফুল আলমের একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল। গত ৩০ মার্চ আইনজীবীদের কর্মবিরতি চলাকালীন তিনি সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে সময়ের আবেদন জানান।

অভিযোগে বলা হয়, বিচারক রাশেদুর রহমান সেই আবেদন নামঞ্জুর করে একতরফাভাবে বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং আইনবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।

আর্জিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচারক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন।

এর আগে বাদী এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ অভিযোগ দিলেও তা গৃহীত না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

বাদী মেসার্স এস আলম নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। ব্যবসা সংক্রান্ত ঋণের বিষয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি যশোর শাখা তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করেছিল, যা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন ছিল।

সম্প্রতি ওই মামলার রায়ে শরিফুল আলমকে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই আদালতের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, ভুক্তভোগী শরিফুল আলম ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিচারক এটি বিচারাধীন রেখেছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হলে যশোরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বাদীকে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাছুম খান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।